নতুন_জীবন

_নতুন_জীবন_

#_নতুন_জীবন_
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
--- একটু এদিকে আয় নিহা।
--- কি বললবা? বল।
--- তোর জন্য একটা ছেলে পছন্দ করেছি,, আজ বিকেলে একটু দেখে আসিস তো।
মায়ের কথা শুনে নিহা থমকে গেলে।
--- আমার জন্য ছেলে পছন্দ করেছ?
--- হুম, এখন তোর পছন্দ হলেও বিয়ের কাজটা সম্পূর্ণ করতে চায়।
--- আমি এখন বিয়ে করতে চায় না। আরো পড়তে চায়, ছোট খাটো একটা চাকরি করব,, তারপর বিয়ে।
--- আচ্ছা ঠিক আছে। তবে একবার দেখতে তো পারিস নাকি?
--- তোমরা তো দেখছি আমাকে এই বাড়ি থেকে বের করার জন্য খুব ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে। আচ্ছা যাও দেখা করব। ( নিহা রাগ দেখিয়ে কথাটা বলল আর সাথে সাথে রুমে চলে গেল)
নিহার মা খবরের কাগজটা হাতে নিয়ে রুমে যায়। নিহা রাগ করে মুখ ফুলিয়ে বসে আছে।
--- পাগল একটা। বিকেল চারটায় ছেলেটা তোর জন্য কফি হাউজে দেখা করবে,, তুই চলে যাস। ( নিহার মা মাথা হাত বুলিয়ে কথাটা বলে) রাগ কিছুটা কমেছে।
*
--- নিজের পছন্দের ছেলের সাথে বাবা-মা বিয়ের জন্য রাজি না হওয়ায় গলায় দড়ি দিল এক ১৭ বছরের যুবতি। খবরের কাগজটা পড়ে নিহার মা একটা দীর্ঘ্য শ্বাস ফেললেন। কি যুগ এল,, ছেলে মেয়েগুলো যা ইচ্ছা করে বেড়াচ্ছে। আজ কালের ছেলে-মেয়েগুলোর মা-বাবার সিদ্ধান্তের উপর একটুও বিশ্বাস নেই। যে মা-বাবা নিজের সব সুখ উজার করে তার সন্তানের সুখের কথা ভাবে সেই সন্তানেরাই মা-বাবাকে এতটা অবহেলা করে।
নিহা শুধু শুনছে কোন উত্তর দিচ্ছে না।
--- আচ্ছা, আমি বোঝতে পারছি আর বলতে হবে না,, আমি দেখা করতে যাব। এখন তো খুশি?
নিহার মা মুচকি হাসি দিয়ে নিহার কপালে একটা চুমু দিল।
*
বিকেল সাড়ে তিনটা.....
নিহা উঠ,, আর কত ঘুমাবি? সারা দিন শুধু ঘুম আর ঘুম। ঘুম ছাড়া কিছুই জানে না মেয়েটা।
মায়ের ডাকে নিহার ঘুম ভাঙ্গল।
--- কিরে তোর না দেখা করতে যাওয়ার কথা?
--- ও হ্যাঁ, যাচ্ছি।
নিহা তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আসল। আর বেশি সময় নেই। প্রায় চারটা বেজে যাচ্ছে।
কপালে একটা টিপ, নীল শাড়ি আর হতে একটা ব্যাগ নিয়ে দেখা করার উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
আজ রাস্তায় বেশি একটা রিক্সা নেই,, কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকার পর রিক্সার দেখা পেলাম কিন্তু এতক্ষণে দশ মিনিট দেরি হয়ে গেছে। কফি হাউজে পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় সাড়ে চারটা বেজে গেছে। নিহা কফি হাউজে পৌঁছেই ছেলেটির দেখা পায়। সে কোণার একটা চেয়ারে উল্টো দিকে মুখ করে বসে আছে।
*
নিহার মায়ের বর্ণনা মতে ছেলা সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট পড়ে আসবে। মাথা চুলগুলো কালো কিন্তু পাকানো,, গায়ের রং ফর্সা আর ছেলেটার নাম রাফাত।
নিহার মায়ের কথা মত এটাই সেই ছেলে। নিহা আস্তে আস্তে ছেলেটার কাছে গেল।
*
--- হ্যাঁলো "আপনি কি রাফাত?"
--- জ্বী,, আপনি কে?
--- অদ্ভুদ, আপনাকে আম্মু কিছু বলেনি? আমি নিহা।
--- অহ,, সরি। আমি প্রথমে বোঝতে পারিনি। প্লিজ বসুন।
--- আচ্ছা, কেমন আছে?
--- এইতো মুটামুটি। আপনি?
--- আমি ভালো আছি। তো আপনি এখন কি করছেন?
--- আমি বর্তমানে একটা বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করছি আর সরকারি চাকরির জন্য ট্রাই করছি। আপনি?
--- এবার অনার্স শেষ করলাম। আপনার.....
নিহা আর কিছু বলার আগেই এক দেড় বছরের একটা বাচ্চা রাফাতের কাছে এসে বলল -
--- আব্বু আমি বাড়িতে যাব।
রাফাত বাচ্চাটা কোলে নিয়ে বলল -
--- হুম, বাবা এখনিই যাব।
নিহা রাফাতের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
*
--- বাচ্চাটা কি আপনার?
--- হুম।
--- আমি কিন্তু সিরিয়াস, বাচ্চাটা আপনার?
--- জ্বী, ওর নাম নিলয়। আমার ছেলে।
---- কিহহহ !! আম্মু তো আমাকে বাচ্চার ব্যাপারে কিছুই বলেনি।
নিহা এক পা এক পা করে পিছু হাটতে থাকে। তারপর সোজা বাসায় চলে আসে।
*
--- আম্মু? আম্মু? আম্মু? নিহার চেচিয়ে চেচিয়ে ডাক শুনে তার মা রান্না ঘর থেকে ছুটে আসে।
--- কি হলো? ছেলে পছন্দ হয়েছে?
--- নাআআআআ, এই ছেলে আমার পছন্দ না। তুমি বলনি কেন রাফাতের একটা বাচ্চা আছে। আগেও একটা বিয়ে হয়েছে। যদি জানতাম তাহলে দেখা করতেই যেতাম না। ( নিহা প্রচন্ড রেগে আছে)
--- রাফাত তোকে সব কিছু খুলে বলেনি?
(নিহা তার মাকে বলেনি যে, রাফাতকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই নিহা চলে এসেছে।)
--- না, কিছু বলেনি আর আমার শুনারও দরকার নেই। বিয়ে করা কোন ছেলেকে আমি বিয়ে করব তুমি ভাবলে কি করে? তার উপর একটা ছেলেও আছে। তোমার মাথা ঠিক আছে তো? যত্তসব.....
--- আমি বিয়ের কথা ভাবিনি,, বাচ্চাটার একটা মায়ের দরকার শুধু এটাই ভেবেছিলাম। একটা বাচ্চার কাছের মায়ের শূণ্যতা তুই কি বোঝবি। মাঝে মধ্যে যখন রাফাতের সাথে দেখা হয় বাচ্চাটা তখন বাচ্চাটাকে খুব অসহায় লাগে। মা মরা ছেলেটা এখন হয়তো বোঝতে পারবে না কিন্তু যখন বড় হবে তখন ঠিকই মায়ের ভালবাসার অভাবে এদিক ওদিক অন্ধের মতো মাকে খুঁজবে। তাছাড়া ছেলে হিসেবে রাফাত খুব ভদ্র।
এখন নিহা আর কিছুই বলছে না, শুধু চুপ করে বসে আছে। চোখে কোনে জল টলমল করছে। নিহা ভাবছে -
আমার উচিৎ ছিল রাফাতের সাথে কথা বলার।
এভাবে কিছু কেটে গেল.... নিহা রাফাতকে খোজার চেষ্টা করেনি,, তার নাম্বার জোগাড় করে ফোন দেয়নি। নিহার মা অনেক বার বলছে রাফাতের সাথে কথা বলার জন্য। কিন্তু নিহা কিছুই করেনি।
একদিন নিহা বাজারের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়,, হঠাৎ রাস্তার মধ্যে রাফাতের সাথে নিহার দেখা হয়। কিন্তু রাফাত কোন কথা বলেনি, পাশ কাটিয়ে চলে যায়। রাফাতের কুলে বাচ্চাটা। নিহা পিছন থেকে ডেকে বলে --
--- এই যে, একটু শুনবেন।
--- জ্বী, আমি?
--- হ্যাঁ, আপনিই। একটু কথা ছিল।
তারপর দু'জন রাস্তার পাশে গাছ তলায় বসে।
--- সেদিন আপনার ব্যাপারে কিছু না জেনেই চলে যায়, এজন্য সরি।
--- না, ঠিক আছে সরি বলার কিছু নেই। আমারই দোষ বিয়ে করা সত্ত্বেও আবার মেয়ে খুজছি। ( কথাটা বলতেই রাফাতের চোখে জল চলে আসে) বিশ্বাস করেন আমি শুধু আমার ছেলের জন্য একটা মা খুঁজছি। কি আর করার কপালটাই খারাপ,, আমি কি জানতাম সুন্দর সংসারটা একদিন ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে? যেদিন নিলয় দুনিয়ার আলো দেখেছিল সেদিন তার মা চিরদিনের জন্য সূর্য দেখা হারিয়ে ছিল। এখন আর সেই স্মৃতি মনে করতে চায়না। কারন, এর প্রভাব নিলয়ের উপর পড়তে পারে। যখন নিলয় বড় হবে তখন মানুষ বলবে যে ছেলের জন্মের পর মা মারা যায় সে ছেলে আর কেমন হবে,, বিশ্বাস করেন আমি এমন কিছু মানুষের মুখ থেকে শুনতে চায় না। এতে ছেলেটার জীবন নষ্ট হয়ে যাবে। আমি দুঃখিত আপনার সময় নষ্ট করার জন্য, ক্ষমা করবেন।
বাহিরে প্রচন্ড রোদ থাকা সত্ত্বে নিলয়ের মাথা রুমাল দিয়ে ঢেকে হাটতে শুরু করে রাফাত।
নিহা রাফাতের দিকে অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছে।
*
এখন আর রোদ লাগছে না, কে যেন মাথার উপর ছাতা ধরে আছে। রাফাত ঘার ফিরিয়ে তাকায়। আপনি?
নিহা হেসে উত্তর দিল--
--- হ্যাঁ, আমি। নিলয়কে আমার কাছে দেন। আর আপনি ছাতাটা ধরেন।
রাফাত পুরোপুরি শক খেল।
--- না, না। ঠিক আছে আমি যেতে পারব।
--- উহু,, যা বলছি তাই করেন। আজ থেকে নিলয় তার নতুন মায়ের সাথে থাকবে। তার একটা আম্মু দরকার। চলেন আজই বিয়ে করে ফেলি? নিহা আস্তে আস্তে রাফাতের হাতটা শক্ত করে ধরল।
তারপর দু'জনই নতুন জীবনের খুঁজে পা বাড়ালো।
রাফাত নিহার দিকে তাকিয়ে ভাবছে--
সত্যিই কিছু কিছু মানুষের মন আকাশের চেয়েও বিশাল হতে পারে,, তা অসম্ভবের কিছু না। শুধু মাত্র একটা বিশুদ্ধ মন দরকার আর কিছুই না।

------------------------------সমাপ্ত--------------------------------------------






#অধিকার_নেই গল্পের সব পার্ট 
অধিকার নেই পার্ট:01
অধিকার নেই পার্ট:02
অধিকার নেই পার্ট,03
অধিকার নেই পার্ট,04
অধিকার নেই পার্ট,05
অধিকার নেই পার্ট,06
অধিকার নেই পার্ট,07(সমাপ্তি)

Reactions

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ