লাভ গেমস্ - পর্ব ০৬

লাভ গেমস্ - পর্ব ০৬

লাভ গেমস্

লেখকঃ Sanjida Afrin Shetu

পর্বঃ ০৬

রিশান চলে যাচ্ছিল,শোয়েব ওকে আবার ডাকল
শোয়েব: Hey Rishan,wait a minute
রিশান: (হেসে)কি ভয় পেয়ে গেলি নাকি?
শোয়েব: ভয় আর আমি!তুই কি মনে করেছিস,তুই যা ইচ্ছে করবি আর আমি চুপচাপ হাত গুঁটিয়ে বসে থাকব?তোর যা ইচ্ছে কর তবে মনে রাখবি তোর সব প্ল্যান ভেস্তে দেয়ার জন্যে আমাকে অলয়েজ তোর পাশেই পাবি।তুই বলেছিলি না,ইট'স এ ওয়্যার আর এই ওয়্যারে আনফেয়ার ওয়ে তুই এ্যাপ্লাই করেছিস।এবার আমার পালা,যা যা করতে পারিস ট্রাই করে নে আমি তোর সব চাল একটা একটা করে কাটব এন্ড আই মিন ইট...
রিশান: তোর কথা শেষ?নাইস স্পিচ,ওয়েল ডান ব্রো...Do whatever you can and I will do everything for whatever I want...
(রিশান অট্টহাসি দিতে দিতে বেরিয়ে গেল)
শোয়েব: আরে যা যা,তবে যাওয়ার আগে একটা কথা কান খুলে শুনে যা,এই বেটতো আমিই জিতব,শুধু তোকে হারানোর জন্যই না ওই মেয়েকে আমার চাই ই চাই, তা এক রাতের জন্য হলেও চাই....
.
(কয়েকদিন পর)
শোয়েবকে সোমা যত দেখছে ততই যেন মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছে,ওর সম্পর্কে যত বাজে ধারণা ছিল সব আস্তে আস্তে বদলে যাচ্ছে,সেই জায়গায় অদ্ভূত এক ভালোলাগা কাজ করছে।বার বার মনে হচ্ছে এতদিন শোয়েবকে ও ভুল বুঝে এসেছে,সেজন্য মনে মনে বেশ খারাপও লাগছে।এই কয়দিনে ভার্সিটিতে শোয়েব ওকে অনেকভাবে হেল্প করেছে,শুধু শোয়েবই না আরেকটা ভাইয়াও ওকে অনেকভাবে হেল্প করেছে।ছেলেটাকে ও ঠিক চেনে না,আগে কখনও দেখা হয়নি,সবার থেকে জেনেছে ভাইয়াটার নাম রিশান,উনি শোয়েব ভাইয়াদের সাথেই পড়েন তবে অন্য ডিপার্টমেন্ট।সোমার নিজেকে খুব লাকি মনে হচ্ছে সবার এত হেল্প পেয়ে,সব মেয়েরা যে ওকে অনেক হিংসা করছে দেখে মনে মনে বেশ খুশিও হয়েছে।
ঢাকায় আসার পর আজই প্রথম ওরা তিন রুমমেট একসাথে শপিংয়ে এসেছে।সোমা শপিং টপিং খুব একটা পছন্দ করে না কিন্তু জরুরী কিছু জিনিস কেনা লাগবে তাই না এসে পারে নি আর আসলে শপিংয়ে ওরা এসেছেই ফারিয়ার জন্যে এই মেয়েকে না দেখলে সোমার বিশ্বাসই হত না মেয়েদের জন্য এই শপিংমলে এত এত জিনিস আছে।ওর কেনাকাটার লিস্ট পূরণ করতে করতে সোমা আর জেরিন দুজনেই হাঁপিয়ে উঠেছে তবুও যেন অর্ধেকও শেষ হয়নি।সোমা জাফিরকে সঙ্গে আনতে চেয়েছিল কিন্তু ওর কি একটা কাজ ছিল তাই আসতে পারে নি।সোমার এখন মনে হচ্ছে জাফির না এসে খুবই ভাল একটা কাজ করেছে নাহলে ফারিয়ার এত বাজার করতে করতে বেচারা ফেড আপ হয়ে যেত...
সব শপিং কমপ্লিট করতে করতে বেশ রাত হয়ে গেল,ওরা একটা ট্যাক্সিক্যাব নিয়ে হোস্টেলের দিকে এগিয়ে চলল কিন্তু কিছুদূর যেতেই মনে হল ওদের ট্যাক্সিটা যেন অন্য রাস্তায় যাচ্ছে।ওরা বারবার থামাতে বলার পরও ড্রাইভার যেন কিছুই শুনতে পাচ্ছে না এমন একটা ভাব ধরে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে।ওরা তিনজনেই বেশ ভয় পেয়ে গেছে,ভয়ে ভয়ে বেশ কয়েকবার চিৎকারও দিল কিন্তু গাড়ির গ্লাস নামানো তাই কেউই কিছু শুনতে পেল না।ট্যাক্সিটা একটা নির্জন জায়গায় এসে থেমে গেল,ওরা বাইরে বেরোতে যাবে তখনই দেখল চার-পাঁচজন লোক ওদের গাড়িটার দিকেই আসছে।ট্যাক্সিটার কাছে এসেই লোকগুলো দরজা খুলে ওদেরকে বাইরে বের করে নিয়ে আসল।ভয়ে ওদের তিনজনেরই গলা শুকিয়ে গেছে,গলা দিয়ে কোন আওয়াজই বের হচ্ছে না।কথা বলার শক্তিটুকুও যেন হারিয়ে গেছে,ভয়ে চোখদুটো বের হয়ে আসতে চাইছে,কি করবে বুঝতে না পেরে তিনজনই হাত ধরে আস্তে আস্তে পেছাতে লাগল।লোকগুলোও ওদের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে ওদের দিকে এগিয়ে আসছে দেখে ওরা যে যার মত দৌঁড় দিল কিন্তু খানিকদূর এগোতেই জেরিন আর ফারিয়াকে ওরা ধরে ফেলল আর সোমা কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় পড়ে গেল।
মানুষটা কে তা তাকিয়ে দেখার মত শক্তি বা সাহস  কোনটায় সোমার নেই কিন্তু যখন লোকটা ওর কাঁধে হাত রেখে ওকে তোলার চেষ্টা করল তখন আচমকায় শিউরে উঠল,গায়ে কাঁটা দিতে লাগল কিন্তু যখন দেখল ওকে তুলে ধরা লোকটা রিশান তখন নিমেষেই সব ভয় দূর হয়ে গেল।রিশারকে দেখে ফারিয়া আর জেরিনও শয়তানগুলোর হাত ছুটিয়ে রিশানের কাছে ছুটে আসল যেন কোন আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে।
ঐ ট্যাক্সি ড্রাইভার আর তার সাথের লোকগুলো রিশানের দিকে এগিয়ে আসলে শুরু হয়ে গেল মারামারি।সোমা আর ওর রুমমেটরা এক কোণায় দাঁড়িয়ে ভয়ে ভয়ে সেই দৃশ্য দেখতে লাগল।কিছুক্ষণের মধ্যেই রিশানের হাতে মার খেয়ে বদমাশ গুলো প্রায় আধমরা হয়ে পালিয়ে গেল কিন্তু যাওয়ার আগে ওদের মধ্যে একজন একটা পিস্তল বের করে সোমার দিকে গুলি করল।সোমা ভয়ে চোখদুটো বন্ধ করে ফেলল কিন্তু বেশ কিছু্ক্ষণ পেরিয়ে গেলেও যখন গায়ে কোন আঘাত অনুভব করল না তখন ভয়ে ভয়ে একবার চোখ মেলে তাকালো আর তাকাতেই চমকে উঠল।
ওর ঠিক সামনেই শোয়েব গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে,পুরো শরীর রক্তে ভিজে একাকার হয়ে আছে।ফারিয়া আর জেরিন ওকে ধরে কান্নাকাটি শুরু করেছে,সোমা আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না ধপ্ করে বসে পড়ল।দুফোঁটা অশ্রু ওর চোখ বেয়ে শোয়েবের হাতের উপর পড়ল আর তা দেখে শোয়েব এত যন্ত্রণার মধ্যেও মুচকি একটা হাসি দিয়ে বলল
শোয়েব: এই পাগলি,কাঁদছো কেন?আমি কি মারা গেছি নাকি?এই দেখ আমি একদম ঠিক আছি,আমাকে ছেড়ে দিলে এখনও মেসির মত ফুটবল খেলতে পারব
শোয়েবের কথা শুনে সোমার কান্না আরো বেড়ে গেল।পুরো ঘটনায় রিশান এতটাই অবাক হয়ে গেছে যে জায়গা থেকে এক পা ও নড়েনি,অবাক হয়ে একবার শোয়েবের দিকে আর একবার সোমার দিকে তাকাচ্ছে...
(পরদিন)
অনেক্ষণ ধরে হসপিটালের কড়িডোরে পায়চারি করছে রিশান,করিডোরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ঘোরাঘুরি করলেও ২৩১ নং রুমটায় ঢোকার সাহস পাচ্ছে না।কালকের ঐ এ্যাক্সিডেন্টের পর শোয়েবকে এই রুমেই রাখা হয়েছে।শোয়েবের এই অবস্থার জন্য অনেকটা নিজেকেই দায়ী করছে রিশান,খুব গিল্টি ফিল করছে কারণ কালরাতে যারা সোমাদের উপর এ্যাটাক করেছিল তাদেরকে যে ও নিজেই হায়ার করেছিল।ভেবেছিল সোমার সামনে হিরো সেজে ওকে ইমপ্রেস করবে কিন্তু ওরা যে যাওয়ার আগে শ্যুট করবে সে সম্পর্কে কোন ধারণাই ছিল না ওর।শোয়েবকে যতই প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবুক না কেন,ওর এমন অবস্থা হোক সেটা কখনই চায়নি রিশান তাই নাজেকে কেমন অপরাধী অপরাধী লাগছে।শেষ মেষ অনেক ভেবে রুমে ঢুকেই পড়ল রিশান,ওকে দেখেই শোয়েব মুচকি একটা হাসি দিল
শোয়েব: হাই রিশান,কি কেমন দিলাম?
রিশান: (অবাক হয়ে)মা..ম..মানে?
শোয়েব: তুই কি ভেবেছিলি,গুণ্ডা শুধু তুইই হায়ার করতে পারিস,আমি কিছু পারিনা?
রিশান: (চমকে উঠে)তারমানে...
শোয়েব: ঠিকই ধরেছিস,তুই ওদের সবাইকে হায়ার করেছিস আর আমি ওদের মধ্যে শুধু একজনকে হায়ার করে আমার উপর নকল বুলেট চালাতে বলেছিলাম আর তাতেই...
রিশান: তুই কিন্তু কাজটা একদম ঠিক করিস নি
শোয়েব: শুরুটা তুই করেছিস তাই আমাকেও তো কিছু একটা করতেই হত তাইনা?কি ভেবেছিলি,আমার প্ল্যান ভেস্তে দিবি আর আমি তোর প্ল্যান সাকসেসফুল হতে দিব!তাতো হবে না ব্রো...
রিশান: (রেগে চিৎকার করে)ইউ বাস্টার্ড,ইউ উইল হেভ টু পে ফর দিস
শোয়েব: যা যা,যা ইচ্ছে হয় কর
রিশান রাগে ফুঁশতে ফুঁশতে চলে গেল,ও যেতেই সোমারা তিনজন আসল।শোয়েবের ইশারায় ফারিয়া আর জেরিন একটু পরেই বেরিয়ে গেল,রুমে এখন শুধু সোমা আর শোয়েব।সোমা শোয়েবের জন্যে একটা ফুলের বুকে নিয়ে এসেছে
সোমা: এটা আপনার জন্য
শোয়েব: ওহ্ থ্যাঙ্কস
সোমা: আপনাকে একটা প্রশ্ন করি?
শোয়েব: হুম
সোমা: গুলিটা তো আমাকে করেছিল,কিছু হলে আমার হত,আপনি শুধু শুধু বুলেটের সামনে চলে আসতে গেলেন কেন?
(সোমা কথা শেষ করার আগেই শোয়েব ওর মুখ আলতো করে চেপে ধরল)
শোয়েব: চুপ,একদম চুপ।আর কক্ষণও এমন কথা বলবে না,আমার শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে তোমার কোন ক্ষতি কেউ করতে পারবে না।তোমার কাছে যাওয়ার আগে সবাইকে আমার লাশের উপর দিয়ে যেতে হবে,বুঝেছ?
সোমা অবাক হয়ে শোয়েবের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে,ওর চোখের ভাষাটা খুব কঠিন আর দৃঢ় তারমানে যা বলেছে সেই ব্যাপারে বদ্ধ পরিকর।ঠিক কি কারণে জানিনা সোমার দুচোখ বেয়ে আকারও দুফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল।শোয়েব সঙ্গে সঙ্গে দুহাত দিয়ে ঐ জল মুছে দিল তারপর বলল...
শোয়েব: আর কক্ষণও যেন ঐ দুচোখে জল না জমে,নাহলে কিন্তু খুব ভারাপ হয়ে যাবে....
অপরিচিত: এক্সকিউজ মি...
সোমা:....
অপরিচিত: এক্সকিউজ মি মিস...
সোমা: (চমকে উঠে)জ্বি আমাকে কিছু বলছেন?
অপরিচিত: জ্বি আপনাকেই বলছি,সেই কখন থেকে আপনাকে ডাকছি শুনতে পান না নাকি?
সোমা: ওহ স্যরি আমি আসলে....
অপরিচিত: ওকে ওকে,বলছিলাম যে এই সিটটা আমার
সোমা: কিন্তু আমিতো...
অপরিচিত: আপনার টিকিটটা দেখতে পারি?
(সোমা ওর টিকিটটা বের করে দিল)
অপরিচিত: আরে,আপনিতো খোকসায় নামবেন দেখছি...
সোমা: জ্বি
অপরিচিত: আরে ম্যাডাম,আপনার মাথার ঠিক আছে তো?
সোমা: (অবাক হয়ে)মা..ম মানে?
অপরিচিত: মানে ট্রেন আর দুই মিনিটের মধ্যে খোকসা স্টেশন ছেড়ে যাবে
সোমা: ওহ শিট!এটা খোকসা স্টেশন!
অপরিচিত: জ্বি
সোমা আর এক মুহুর্ত দেরি না করে ব্যাগটা নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে গেল,ও নামতেই ট্রেনটাও ছেড়ে দিল।সোমা জোরে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল,আসলে অতীতের মধ্যে এত গভীরভাবে ডুবে গিয়েছিল যে আশেপাশে কি হচ্ছে কিছুই খেয়াল করে নি,নাহ্ এই পেইনফুল অতীতটা নিয়ে আর ভাবতে চায় না ও।আর টাইম ওয়েস্ট না করে স্টেশন থেকে বেরিয়ে পড়ল ও...
বাড়িতে ঢুকতেই চমকে উঠল সোমা,পুরো বাড়িটা এত সুন্দর করে সাজানো হয়েছে যেন দেখে মনে হচ্ছে বাড়িতে কারো বিয়ে হচ্ছে।কিন্তু এ বাড়িতে আবার কার বিয়ে হবে!সোমাই তো এ বাড়ির বড় মেয়ে,আর কেউতো নেই এখানে আর বাবাতো মাত্র কয়েকদিন আগে ওকে জানালো যে ওর জন্যে পাত্র দেখছে,এত তাড়াতাড়ি বিয়ের এ্যারেঞ্জমেন্টও করে ফেলল!এটা কিভাবে সম্ভব?তাহলে আর কি হতে পারে এ বাড়িতে?এমনভাবে সাজিয়েছেই বা কেন?এসব ভাবতে ভাবতেই সামনের দিকে এগোচ্ছিল সোমা,ভাবনায় ছেদ পড়ল ছোটবোন প্রোমার চিৎকারে।প্রোমা সোমার চেয়ে মাত্র তিন বছরের ছোট,সোমার সাথে ওর সম্পর্কটা একেবারেই বন্ধুর মত,দুই কোন যেন এক আত্মা দুই প্রাণ,দুজন দুজনকে ছাড়া কিছুই বোঝে না।ভার্সিটিতে পড়ার কারণে সোমাকে ঢাকায় থাকতে হয় কিন্তু ওর মনটা সবসময় পড়ে থাকে গ্রামে,ওর আদরের ছোটবোন প্রোমার কাছে।প্রোমা এখানকারই সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে পড়াশোনা করে আর এ কারণেই ও সোমার সাথে ঢাকায় যেতে পারেনি।সোমা ঢাকায় একা থাকে তাই বাসার সবাইকেই অনেক মিস করে কিন্তু সবচেয়ে বেশি মিস করে প্রমাকে,ওর সাধ্য থাকলে ও সবকিছু ছেড়ে অনেক আগেই এখানে চলে আসতো।এতদিন পরে সোমাকে চোখের সামনে দেখে প্রমা আর স্থির থাকতে পারেনি তাইতো এমন চিৎকার দিতে দিতে ছুটে এসেছে
প্রোমা: আপু....তুই এভাবে কাউকে না বলে চলে আসলি যে!একবারতো বলতে পারতি,আমি তাহলে স্টেশন থেকেই তোকে সাথে নিয়ে আসতাম।জানিস আপু,তোকে কত্ত মিস করেছি?তোকে আমি এত্তগুলা মিস করেছি,আমাকে সবাই যতগুলো চকলেট দিয়েছে সবগুলোই আমি রেখে দিয়েছি তোর সাথে শেয়ার করে খাব বলে।আইসক্রিমগুলোও রাখতে চেয়েছিলাম কিন্তু মা রাখতে দেয় নি,চিৎকার করে করে আমার কানের পোকা নাড়িয়ে দিয়েছে,মাথা খারাপ করে দিয়েছে।এই আপু তুই ই বল সামান্য কয়টা আইসক্রিম রাখলে কখনও ফ্রিজ ভর্তি হয়ে যায়?সে যাই হোক,আমি কিন্তু মার কোন কথাই শুনিনি,তোর জন্য বেছে বেছে চার পাঁচটা ফ্লেভারের আইসক্রিম রেখে দিয়েছি।সব তোর ফেভারিট ফ্লেভার,বাটার স্কচ,স্ট্রবেরি,ডার্ক চকলেট আর ভ্যানিলা ফ্লেভার।তোর বার্থডে কেকটাও আমি নিজ হাতে বানিয়ে রেখেছি,তোর ফেভারিট রেড ভেলভেট কেক।কি রে,তুই কিছু বলছিস না কেন?কখন থেকে শুধু আমি একা একাই বকবক করে যাচ্ছি...
সোমা: (হেসে)তুই কিছু বলতে দিলে তো...এবার একটু থাম প্লিজ,এবার একটু নিঃশ্বাস নে নাহলে তো দম বন্ধ হয়েই মারা যাবি...
প্রোমা: চারমাস পরে বাসায় এসেছিস আর এইটুকু কথাও বলতে দিবি না!এই তুই এত খারাপ কেন রে?তোর কি আমাদের কথা একটুও মনে পড়ে না?বড় আসছে আমাকে চুপ করানে ওয়ালা,যাহ্ তোর সাথে আর একটাও কথা বলব না...
মা: তোদের দুই বোনের নাটক শেষ হলে এবার ভেতরে আয়,ছেলে পক্ষের দেরি হয়ে যাচ্ছে তো...
সোমা: (অবাক হয়ে)ছে...লে প..ক..ক্ষ মানে?
প্রোমা: এই আপু,তুই সত্যিই কিছু হানিস না,নাকি না জানার মান করছিস?
সোমা: মা,কি হল কথা বলছ না কেন?আমি জানতে চাইছি ছেলেপক্ষ মানে কি?আর এসব কি?
মা: তুই ভেতরে চল তাহলেই সব বুঝতে পারবি।হাতে একদমই সময় নেই,তুহিন আর ওর ফ্যামিলি অনেক্ষণ ধরে বসে আছে
সোমা: মা আমিতো কিছুই বুঝতে পারছি না,তুহিন কে আর এত তাড়াহুড়োই বা কিসের?
মা: উফ্ তুই বড্ড বেশি কথা বলিস সোমা,যা বলছি তাই কর তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আয়,কথা পরেও বলা যাবে।এই প্রোমা,তোর আপুকে একটু হেল্প করতো আমি একটু ওই দিকটা দেখি...
(মা সোমা আর প্রোমাকে সোমার রুমে রেখে বের হয়ে গেলেন,সোমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না সবকিছুই কেমন যেন ধোঁয়াশার মত ঠেকছ।সোমা ওয়াশরুম থেকে বের হতেই প্রোমা সোমার আলমারি থেকে খুব সুন্দর একটা শাড়ি বের করে বিছানার উপর রাখল,এই শাড়িটা এর আগে কখনও দেখেনি সোমা তারমানে নতুন কেনা হয়েছে।প্রোমা সোমাক শাড়িটা পরিয়ে দেয়ার জন্য তাড়া দিতে লাগল)
প্রোমা: কই রে,তুই কি আমার জিজুটাকে অপেক্ষা করিয়ে করিয়েই মেরে ফেলবি নাকি?
সোমা: জিজু মানে?
প্রোমা: মানে তোর হবু বর।জিজুকে কিন্তু আমার সেই পছন্দ হয়েছে,কি সুন্দর আর হ্যাণ্ডসাম!আর সবার সাথে কি মিশুক জানিস?আমিতো প্রথম দেখেই ফিদা হয়ে গেছি
সোমা: এতই যখন পছন্দ হয়েছে তাহলে নিজেই বিয়ে করে ফেল না,আমাকে কেন বলির পাঠা বানাচ্ছিস?
প্রোমা: ছি আপু,তোর বরের দিকে আমি কেন নজর দিতে যাব?আর তুই এমন রেগে যাচ্ছিস কেন?
সোমা: রাগব নাতো কি করব?একটা ছেলের সাথে আমার বিয়ে হতে যাচ্ছে আর আমি তাকে এখনও পর্যন্ত দেখিনি!তার সম্পর্কে কিছুতো জানিই না,এমনকি আমার যে আজকে বিয়ে সেটা পর্যন্ত জানতাম না!এসবের কোন মানে হয়?
প্রোমা: বিয়ে হতে যাবে কেন,আজকেতো শুধু এংগেজমেন্ট হবে,বিয়েতো আরও এক সপ্তাহ পরে।আসলে তুহিন ভাইয়াকে কালকেই ব্যবসার কাজে ইতালি যেতে হবে,সেখান থেকে ফিরে আসলেই বিয়ে
সোমা: কিন্তু আমাকে কেউ কিছু বলেনি কেন?বাবাতো শুধু ছেলেটার সাথে দেখা করার কথা বলেছিল আর আমিও রাজি হয়েছিলাম।তাহলে এসব....
প্রোমা: আসলে তোকে জানানোর সময় পায়নি।সবকিছু এত তাড়াতাড়ি হয়ে গেল যে...
সোমা: কি হয়েছে সব খুলে বলতো
প্রোমা: আসলে বিয়েটা ছোট মামা নিয়ে এসেছিল,তুহিন ভাইয়া উনার বন্ধুর ছেলে।তোর ছবি দেখেও ওরা পছন্দ করে ফেলেছিল,যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিয়েটা দিয়ে দিতে চাইছিল।আচ্ছা আপু তুই যে আজ বাড়ি আসছিস এই কথাটা কি ছোট মামা জানতো?
সোমা: (একটু ভেবে)হ্যাঁ,ট্রেনে ওঠার আগে মনে হয় মামাকে বলেছিলাম।তার মানে ছোট মামাই...
প্রোমা: হুম,উনি সকালে বাবাকে ফোন করে সবকিছু রেডি করতে বললেন আর তারপরই....
সোমা: আ..আমি এই বিয়ে করব না
প্রোমা: কি যা-তা বলছিস আপু?
মা: কি রে,তুই এখনও রেডি হস নি!কি আশ্চর্য!রেডি হতে এতক্ষণ লাগে?
প্রোমা: দেখ না মা,আপু বলছে বিয়েটা নাকি করবে না
(মা চমকে উঠে সোমার কাছে ছুটে আসল,ওকে দুহাতে ধরে বলল)
মা: কেন রে মা,তুই কি কাউকে পছন্দ করিস?
সোমা: (মনে মনে)পছন্দ করি না মা,করতাম
মা: কি রে,চুপ করে আছিস কেন?কাউকে পছন্দ করলে বাবাকে সব খুলে বল...
সোমা: না আমি কাউকে পছন্দ করি না
মা: তাহলে বিয়েটা করবি না কেন?
সোমা: ছেলেটাকে আমি চিনিনা জানিনা,কখনও দেখিনি পর্যন্ত তাহলে...
মা: চেনা জানার সময়তো আর ফুরিয়ে যাচ্ছে না,এটাতো শুধুমাত্র এংগেজমেন্ট।বিয়েরতো এখনও দেরি আছে,তুই চাইলে বিয়েটা আরও কিছুদিন পিছিয়ে দিব।এরমধ্যেও তোরা যদি দুজন দুজনকে পছন্দ না করিস তাহলে নাহয় বিয়েটা...
সোমা:...
মা: আর কথা না বাড়িয়ে রেডি হয়ে নে মা,আয় আজ তোকে আমি নিজ হাতে সাজিয়ে দিব...
সোমা আর কিছু না বলে মার হাতে শাড়িটা ধরিয়ে দিয়ে ওয়াশরুমে গিয়ে ঢুকল...

Reactions

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ